1. [email protected] : ccadmin :
  2. [email protected] : chaelchattogra :
  3. [email protected] : facfltd :
সড়ক প্রশস্ত করতে কাটা হলো কয়েক শ গাছ, দেখার কেউ নেই : সবুজ বাংলাদেশ'র প্রতিবাদ। - চ্যানেল চট্টগ্রাম
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন

সড়ক প্রশস্ত করতে কাটা হলো কয়েক শ গাছ, দেখার কেউ নেই : সবুজ বাংলাদেশ’র প্রতিবাদ।

মুহাম্মদ আকতার হোসাইন নেজামী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ০ ভিউ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় নানুপুর থেকে খিরাম ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক প্রশস্তকরণের উন্নয়ন কাজ চলছে। সড়কজুড়ে চলছে পুরোদমে উন্নয়ন কার্যক্রম। এতে সড়কের দুপাশে থাকা তিন শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির পুরোনো গাছ কাটা পড়ে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে সড়কের পাশের গাছ কেটে নেওয়ার মৌখিক অনুমোদন দিয়েছে খোদ এলজিইডি অফিস। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, এত কিছু দেখলে কাজ তো থেমে যাবে।

সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য এত গাছ কর্তনের ঘটনা দেখে অবাক স্থানীয় বাসিন্দারাও।
গতকাল ৩১ মে সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, নানুপুর-খিরাম সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা সারিবদ্ধ গাছের অধিকাংশই কেটে ফেলা হয়েছে। কোথাও পড়ে আছে গাছের গোড়া, আবার কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কাটা ডালপালা। কেটে নেওয়া গাছগুলো টুকরা টুকরা করে স্থানীয় আলমগীর কন্ট্রাক্টর নামের এক ব্যক্তির স মিলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক প্রশস্তকরণের সুযোগে পরিকল্পিতভাবে এসব গাছগুলো কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উন্নয়নের জন্য সড়ক প্রশস্তকরণ প্রয়োজন হলেও এভাবে বিপুল সংখ্যক গাছ কেটে ফেলা পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে, গরমের সময় এসব গাছ পথচারীদের ছায়া ও স্বস্তি দিত বলেও জানান তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের দুপাশের গাছগুলো গত কয়েক দিন ধরে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে কর্তন করছেন স্থানীয় আলমগীর কন্ট্রাক্টর নামের এক স’ মিল মালিক। তবে তিনি কী মূলে গাছ গুলো কাটতেছে তা জানতে তাঁর ব্যবহৃত ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি। তাঁর মালিকানাধীন ‘স’ মিলে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগ সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টেন্ডার হয়। প্রশস্তকরণের কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স ডেল্টা করপোরেশন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদ ছাপা ভুট্টু বলেন, ‘সড়কের পাশের গাছ কাটতে দেখেছি। আমরা জেনেছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি সড়কের একটি গাছ কাটতেও অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে এসব বিষয় নিয়ে এত কিছু দেখতে গেলে সড়কের কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কাজ থেমে যাবে। তাই আমরা গাছের স্ব স্ব মালিকপক্ষকে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, সরকারি সড়কের পাশে যে কেউ গাছ লাগাতে পারেন, কিন্তু ইচ্ছামতো গাছ কর্তন করতে পারেন না। কাটা গাছগুলো উদ্ধার করে নিলামে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

এদিকে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পরিবেশ সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স। তারা বলেন, নানুপুর খিরাম সড়ক উন্নয়নে যেভাবেই অবাধে তিনশোর বেশি পুরোনো গাছ কাটা হয়েছে, তা একটি পরিবেশ বিরোধী কাজের অংশ। আমরা এ কাজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং একইসাথে অনুমোদনহীন অবৈধভাবে গাছ কাটার কাজে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও এ গাছের ক্ষতি পূরণ দিতে হবে এবং দ্বিগুণ গাছের চারা রোপণের আওতায় আনতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2018
Theme Customized By LiveTV