চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মাহাতা গ্রামে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসায়ী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার শিকার যুবদল নেতা মোঃ আরমান নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় প্রথমে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থান্তর করে এবং টানা পাঁচ দিন ভক্তি থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত (০৫ এপ্রিল) সন্ধায় ৪নং ওয়ার্ড পূর্বকন্যারা গ্রাম থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে ৫নং ওয়ার্ড মাহাতা ভিকটিমের বাড়ির পাশ্বে কালবাটের উপর বসে মাদক সেবন করছিল তা আরমানের দেখতে পাইলে ভবিষ্যতে এগুলো এইখানে সেবন না করার জন্য নিষিদ করে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আনুমানিক রাত ৯টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে আরমান’কে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত আরমান স্থানীয়ভাবে সাবেক ছাত্রদল সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং তিনি আনোয়ারা থানার সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক এম. হান্নান রহিম তালুকদারের ছোট ভাই। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মোঃ বাঁশী ও মোঃ মুন্নার নেতৃত্বে ৪-৫ জনের একটি সশস্ত্র দল আকস্মিকভাবে দোকানে ঢুকে কোনো ধরনের পূর্ববিরোধ ছাড়াই আরমানের ওপর বর্বর হামলা চালায়। দেশীয় অবৈধ অস্ত্রে সজ্জিত হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক এম. হান্নান রহিম তালুকদার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরমানের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই এম. হান্নান রহিম তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, “হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী চক্রের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসা, অবৈধ মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনসহ নানা অপরাধে জড়িত। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে একজন মানুষকে হত্যার চেষ্টা—এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতির প্রমাণ। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, হামলাকারীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধীদের লাগামহীন দৌরাত্ম্যে জননিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে—তবুও দৃশ্যমান কোনো কঠোর অভিযান না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।