সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে নাগরিক জীবনে সাধারণ মানুষ যে কষ্ট ভোগ করেছেন তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের সাহসী যোদ্ধা ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, কয়েক বছর ধরে মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে, অগ্রগতি হয়েছে অনেক, কিন্তু সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে জনগণ এই প্রকল্পের সফলতা চূড়ান্তভাবে দেখতে পারছে না। জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের জনমত গঠন ও আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে তৎকালীন সরকার মেগা প্রকল্পের জন্য ৯০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন।
ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন, মেগা প্রকল্পের আওতায় নতুন খাল খননসহ অনেক কাজ হয়েছে ও হচ্ছে। এখনো বর্ষাকাল আসার আগেই যেন চট্টগ্রাম মহানগরীর খাল এবং উপখালগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ শেষ করা হয় সেজন্য আমরা বারবার নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে আসছি। মেগাপ্রকল্পের কাজ সঠিক সময়ে শেষ করা, এ বিষয়ের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ও সিটি করপোরেশনের, সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট টিম, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে সমন্বয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কনভেনশন করা হয়েছিল নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে। সেখানে এসব প্রতিষ্ঠানের মেয়র, চেয়ারম্যানরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সমন্বয় ও জবাবদিহিতার এখনো ঘাটতি রয়েছে। কিছুদিন আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছিলেন, এপ্রিল মাসের মধ্যে যেসব খালের কাজ চলছে সেগুলোর বাঁধ খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু এ বিষয়ে কতটুকু পদক্ষেপ আসলেই নেয়া হয়েছে তা জনগণকে অবগত করা হয়নি। সিডিএর কর্মপরিকল্পনার অভাবে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে মেগা প্রকল্পের এত কাজ করার পরও কোথায় কোথায় এখনো জলাবদ্ধতা হচ্ছে, কেন হচ্ছে তা নিরসনের জন্য জলাবদ্ধতা চলাকালীন সময়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করে জরুরী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা মেগাপ্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে, তবে এ কাজ করতে গিয়ে বর্ষাকালে মানুষের ভোগান্তি যেন না বাড়ে, জীবনহানি যাতে না হয়।