সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া তেমুহানী মৌজায় জোরপূর্বক ফসলি জমির মাটি কেটে ভিটে ভরাট ও দখল অপচেষ্টার অভিযোগ ওঠে ওই এলাকার মাহমুদুল হাসান প্রকাশ খোকা ( ৫৫) নামে এক ব্যক্তি ও তার ২ ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়।
১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিকালে উল্লিখিত মৌজার বাশ্শাহ’র বাড়ির পাশে প্রকাশ বেলায়া ব-র ভিটায় ফসলি জমি কাটার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতেনাতে বন্ধ করে দেন। এসময় বিবাদীদের মাটি কাটার অপরাধে জেল-জরিমানার সতর্ক করে থানায় সালিশি-বিচারে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।
এর আগে, দুপুরে সাতকানিয়া থানায় অভিযুক্ত তিনজনের নাম উল্লেখ করে সহযোগী অজ্ঞাত ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী জমির মালিকের অংশীদার নজিবুল্লাহ চৌধুরী। উল্লিখিত বাকী অভিযুক্তরা হলেন— খোকার ছেলে আব্দুর রহিম (৩৭) ও আব্দুল করিম (৩৫)।
অভিযোগে বলা হয়— তেমুহানী মৌজার উল্লিখিত ভিটায় ভুক্তভোগী নজিবুল্লাহ চৌধুরীর পিতা, নিজের প্রায় দেড় কানি জমিতে বহুবছর ধরে চাষাবাদ কর আসছে। অভিযুক্তরা পার্শ্ববর্তী জায়গায় দালান নির্মাণে ভিটা ভরানোর জন্য ওই জমি থেকে মাটি কেটে নেয়ার বারবার তাগাদা দিতে থাকেন।
ভুক্তভোগীর পিতা কৃষি জমির মাটি দিতে অসম্মতি জানালে, এরই জেরে অভিযুক্তরা গত ১৫ এপ্রিল থেকে মাটি কাটার শ্রমিক দিয়ে জোরপূর্বক ফসলি জমি কেটে ভিটা ভরাট করতে থাকে। তারা জমির কিছু অংশে টপ সয়েল কেটে পেলে আবার কিছু অংশে সিংকহোল করে ফেলে।
এভাবে ভিটার গর্ভে চলে যায় পুরো আস্ত কৃষি জমির মাটি। এতে ভুক্তভোগীর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ে।
সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায়, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর পিতাকে ফের ওই জমি থেকে মাটি কেটে নেয়ার কঠোর হুমকি দেন। কেউ বাধা দিতে আসলে জানে মেরে ফেলারও হুমকি প্রদান করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী। উলটো অভিযুক্তরা তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক রোমান জানান, এই ঘটনায় তেমুহানী মৌজার ওই কৃষি জমি পরিদর্শন করা হয়েছে। মাটি কাটার সত্যতাও পেয়েছি এবং অভিযুক্তদের এ ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বিবাদীদের বিষয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ওই কৃষি জমি থেকে ৭/৮ ইঞ্চি করে যেভাবে মাটি কেটে নেয়া হয়েছে, মনে হয় না আর ফলন হবে। এই মাটি খেকোদের জেল-জরিমানা হওয়া দরকার। এতে অন্যান্যরাও সতর্ক হবে। আশা করি, ইউএনও ও এসিল্যান্ড মহোদয় এসে ঘটনাটি পরিদর্শন করবে।
আইনি কড়াকড়িতে যা আছে— বাংলাদেশে ফসলি জমির মাটি কাটা বা ‘টপ সয়েল’ উত্তোলন – (ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩) অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড (লক্ষাধিক টাকা) হতে পারে। এ ছাড়া— বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-অনুযায়ীও অবৈধ মাটি কাটায় তাৎক্ষণিক জরিমানা ও ভেকু/যন্ত্রাংশ জব্দ করার বিধান রয়েছে।